Finished . event 30 Nov, -0001 12:00 AM
‘সন্দেশ’ শব্দের বুৎপত্তি হলো সম্ + দিশ + অ। প্রকৃতি ও প্রত্যয় অনুযায়ী এর অর্থ হলো ‘সুস্বাদু খাবার’ বা ‘সংবাদ’ উভয়ই হয়, তবে ব্যাকরণিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়গত অর্থে এটি ‘সুস্বাদু খাবার’ বা ‘মিষ্টান্ন’ হিসেবে পরিচিত। প্রসঙ্গত, ‘সন্দেশ’ মানে সংবাদও হয়। এখানে অপশন অনুযায়ী সঠিক অর্থ হলো সুস্বাদু খাবার। (ভর্তি পরীক্ষা-২০১২)
‘যুক্ত’ শব্দটি গঠিত হয়েছে ‘যুজ’ ধাতুর সাথে ‘ত’ প্রত্যয় যোগ করে। অর্থাৎ: যুজ + ত = যুক্ত। (ভর্তি পরীক্ষা-২০১৩, ২০১৮)
‘চলন্ত’ শব্দটি ‘চল’ ধাতুর সাথে ‘অন্ত’ প্রত্যয় যোগে গঠিত। চল + অন্ত = চলন্ত। এটি একটি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
‘লাজুক’ শব্দটি ‘লাজ’ শব্দের সাথে ‘উক’ প্রত্যয় যোগে গঠিত। লাজ + উক = লাজুক।
প্রত্যয় প্রধানত দুই প্রকার: ১. কৃৎ প্রত্যয় এবং ২. তদ্ধিত প্রত্যয়।
‘খেলনা’ শব্দটি ‘খেল’ ধাতুর সাথে ‘না’ প্রত্যয় যোগে গঠিত। খেল + না = খেলনা।
প্রত্যয় যুক্ত করার মূল উদ্দেশ্য হলো ধাতুর সাথে বা শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করা।
উপসর্গ বসে শব্দের আগে, আর প্রত্যয় বসে শব্দের বা ধাতুর পরে। তাই প্রত্যয় শব্দের শেষে বা পরে বসে।
‘মহিমা’ শব্দটির প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো: মহৎ + ইমন = মহিমা। এখানে ‘মহৎ’ হলো প্রকৃতি এবং ‘ইমন’ হলো তদ্ধিত প্রত্যয়। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শব্দ যা প্রায়ই পরীক্ষায় আসে। (ভর্তি পরীক্ষা-২০১০, ২০১৪)
‘দোলনা’ শব্দটি ‘দুল’ ধাতুর সাথে ‘অনা’ প্রত্যয় যোগে গঠিত হয়। অর্থাৎ: দুল + অনা = দোলনা। এটি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত একটি শব্দ। (ভর্তি পরীক্ষা-২০১৪)
‘কারক’ শব্দটির প্রকৃতি হলো ‘কৃ’ ধাতু এবং এর সাথে ‘অক’ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ‘কারক’ হয়েছে। অর্থাৎ: কৃ + অক = কারক। এটি সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।
‘নীলিমা’ শব্দটি গঠিত হয় ‘নীল’ শব্দের সাথে ‘ইমন’ তদ্ধিত প্রত্যয় যোগ করে। নীল + ইমন = নীলিমা। এটি বিশেষ্য পদ তৈরির একটি নিয়ম।
‘শ্রবণ’ শব্দটি ‘শ্রু’ ধাতুর সাথে ‘অন’ (ল্যুট) প্রত্যয় যোগে গঠিত। অর্থাৎ: শ্রু + অন = শ্রবণ।
ধাতুর পরে ‘আই’ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ভাববাচক বিশেষ্য গঠিত হয়। যেমন: চল + আই = চলাই, বাচল + আই = বাঁচাই।
‘শৈশব’ শব্দটি ‘শিশু’ শব্দের সাথে ‘অ’ (ব) প্রত্যয় যুক্ত হয়ে গঠিত হয়। আদি স্বর পরিবর্তন হয়ে শিশু থেকে শৈশব হয়েছে। শিশু + অ = শৈশব।
‘রাঁধুনী’ শব্দটি ‘রাঁধ’ ধাতুর সাথে ‘উনী’ (বা নি) প্রত্যয়যোগে গঠিত। সঠিকটি হলো রাঁধ + উনী (নি)।
‘চালন’ শব্দটি ‘চল’ ধাতুর সাথে ‘অন’ প্রত্যয় যোগে গঠিত। চল + অন = চালন।
‘নিমকি’ শব্দটি ‘নিম’ শব্দের সাথে ‘কি’ প্রত্যয় যোগে গঠিত। নিম + কি = নিমকি।
‘চাকরানী’ শব্দটি ‘চাকর’ শব্দের সাথে ‘আনী’ প্রত্যয় যোগে গঠিত। চাকর + আনী = চাকরানী।
ঘোড়া একটি নাম শব্দ, আর নাম শব্দের সাথে যে প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে। তাই ‘ঘোড়া + আই’ তদ্ধিত প্রত্যয়।
বিভক্তিহীন নাম শব্দকেই প্রাতিপদিক বলে। প্রাতিপদিককে শব্দ প্রকৃতিও বলা হয়।
‘মেধাবী’ শব্দটির প্রকৃতি ‘মেধা’ এবং এর সাথে ‘বিন’ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ‘মেধাবী’ গঠিত হয়। মেধা + বিন = মেধাবী। মনে রাখবে, ‘বিন’ প্রত্যয়ান্ত শব্দের শেষে ‘বী’ যুক্ত হয়।
‘উক্ত’ শব্দের মূল ধাতু হলো ‘বচ্’। বচ্ + ক (ত) = উক্ত। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
‘যৌবন’ শব্দটি ‘যুবন্’ শব্দের সাথে ‘অ’ প্রত্যয়যোগে গঠিত হয়, তবে ব্যাকরণের সাধারণ নিয়মে অনেক বইতে এটি ‘যুব + অন’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। সঠিক প্রকৃতি হলো যুবন্ + অ = যৌবন।
‘বর্ধিষ্ণু’ শব্দটি ‘বর্ধ’ (বৃদ্ধি পাওয়া) ধাতুর সাথে ‘ইষ্ণু’ প্রত্যয় যোগে গঠিত। বর্ধ + ইষ্ণু = বর্ধিষ্ণু।
‘হৈম’ শব্দটি ‘হেম’ শব্দের সাথে ‘অ’ বা ‘ইক’ প্রত্যয় যোগে গঠিত। সঠিক উত্তর হবে হেম + ইক (বা অ) = হৈম।
‘মেছে’ শব্দটি ‘মাছ’ থেকে ‘মেছো’ বা ‘মেছে’ হয়েছে, যা মাছের কাজ বা উপজীবিকা বোঝায়।
‘দীপমান’ শব্দটি ‘দীপ’ ধাতুর সাথে ‘শানচ’ (মান) প্রত্যয় যোগে গঠিত। দীপ + শানচ = দীপমান।
ফি: ফ্রি