Finished . event 30 Nov, -0001 12:00 AM
সমাস শব্দের অর্থ হলো সংক্ষেপণ। দুই বা ততোধিক পদের একপদীকরণের প্রক্রিয়াই হলো সমাস। সমাসের মাধ্যমে একাধিক পদের সমন্বয়ে একটি নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয়। তাই সমাসের মাধ্যমে নতুন শব্দ গঠিত হয়।
সমাস প্রক্রিয়ায় সমাসবদ্ধ যে নতুন পদটি তৈরি হয়, তাকে সমস্ত পদ বা সমাসবদ্ধ পদ বলে। ব্যাসবাক্য হলো সমাসের অংশবিশেষ যা সমস্ত পদের অর্থ প্রকাশ করে।
‘দম্পতি’ শব্দটি দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ। এর ব্যাসবাক্য হলো ‘জায়া ও পতি’। এটি নিত্য সমাসের অন্তর্গতও হতে পারে, তবে ব্যাকরণবিদদের মতে এটি দ্বন্দ্ব সমাস। (ভর্তি পরীক্ষা-২০১৪ ট্রেইটাইল)
‘রাজপথ’ হলো তৎপুরুষ সমাস। এর ব্যাসবাক্য ‘পথের রাজা’ বা ‘রাজার পথ’ নয়, বরং ‘পথেরই রাজা’ বা ‘রাজা যে পথ’ অর্থে এটি উপমিত বা কর্মধারয় সমাস হিসেবে গণ্য হয় (মূলত ষষ্ঠী তৎপুরুষের ব্যতিক্রম)। শুদ্ধ ব্যাসবাক্য হলো 'পথের রাজা'।
যখন উপমেয় (যৌবন) ও উপমান (সূর্য)-এর মধ্যে অভেদ কল্পনা করা হয়, তখন তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এখানে যৌবনকেই সূর্য মনে করা হয়েছে।
‘বহুব্রীহি’ শব্দটির অর্থ ‘বহু ধান আছে যার’। এটি একটি বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ, যেখানে সমস্ত পদের অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো অর্থ বোঝায়।
যে তৎপুরুষ সমাসে কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ বলে। ‘পকেট’ (উপপদ) + ‘মার’ (কৃৎ প্রত্যয়ন্ত) = পকেটমার। (ভর্তি পরীক্ষা-২০১২)
অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদে অব্যয় যোগে সমাস হয়। ‘উপ’ একটি উপসর্গ বা অব্যয়, যা শহরের সমীপ বোঝাচ্ছে। তাই এটি অব্যয়ীভাব সমাস। (ভর্তি পরীক্ষা-২০১২)
‘ঘিয়াভাত’ এর ব্যাসবাক্য হলো ‘ঘি মিশ্রিত ভাত’। এখানে ‘মিশ্রিত’ পদটি লোভ পাওয়ায় এটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস। (ভর্তি পরীক্ষা-২০১৪)
‘ভিক্ষার অভাব’ = দুর্ভিক্ষ। অভাব অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়। (ভর্তি পরীক্ষা-২০১৪)
সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে সমাহার বা সমষ্টি বোঝালে তাকে দ্বিগু সমাস বলে। (ভর্তি পরীক্ষা-২০১৪)
দ্বিগু সমাস মূলত কর্মধারয় সমাসেরই একটি প্রকারভেদ। এই সমাসে পরপদটি প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়।
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায় না, তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে। ‘চিনিতে পাতা’ = চিনিপাতা। এখানে ‘এ’ বিভক্তি লোপ পায়নি।
বহুব্রীহি সমাস এমন একটি সমাস যেখানে পূর্বপদ বা পরপদ কোনোটির অর্থই প্রাধান্য পায় না, বরং অন্য একটি অর্থকে বোঝানো হয়। যেমন—‘পীতাম্বর’ মানে শ্রীকৃষ্ণ (পীত অম্বর যার)।
রূপক কর্মধারয় সমাসে উপমেয় ও উপমানের মধ্যে অভেদ কল্পনা করা হয়। মনকে এখানে মাঝি হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে (মনই মাঝি)।
এটি উপমিত বহুব্রীহি সমাস, যা సమాনাধিকরণ বহুব্রীহি সমাসের একটি উদাহরণ। এর সমস্ত পদ হলো ‘মীনাঙ্ক্ষী’।
‘চিনিতে পাতা’ = চিনিপাতা। এখানে ‘তে’ বিভক্তিযুক্ত থাকায় এটি সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস। মেধা ঘরের পক্ষ থেকে মনে রাখুন, বিভক্তি লোপ না পেলে তাকে অলুক বা অলোক তৎপুরুষ বলা হয়।
হাত ও পা—উভয় পদের অর্থের প্রাধান্য থাকায় এবং ‘ও’ অব্যয় যোগে যুক্ত হওয়ায় এটি দ্বন্দ্ব সমাস। মেধা ঘর এর নিয়ম অনুযায়ী অঙ্গবাচক শব্দগুলো প্রায়ই দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ হয়।
অব্যয়ীভাব সমাসে ‘উপ’ উপসর্গটি সাধারণত ক্ষুদ্র বা নিকটবর্তী অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন- উপশহর (শহরের ক্ষুদ্র সংস্করণ বা নিকটবর্তী)। মেধা ঘরের ব্যাকরণ গাইডলাইন অনুযায়ী এটি মনে রাখা সহজ।
‘পণ্ডিতমূর্খ’ শব্দটি মূলত কর্মধারয় সমাসের অন্তর্ভুক্ত। এর অর্থ এমন ব্যক্তি যিনি পণ্ডিত হওয়া সত্ত্বেও মূর্খতা প্রদর্শন করেন। মেধা ঘরের রেফারেন্স অনুযায়ী, যিনি-তিনি থাকলে সেটি কর্মধারয় সমাস হয়।
যৌবনরূপ সূর্য। যেখানে রূপ বা অভেদ কল্পনা করা হয়, তা রূপক কর্মধারয় সমাস। মেধা ঘরের পাঠদান পদ্ধতি অনুসরণ করলে এই ধরণের রূপক শব্দগুলো সহজেই চেনা সম্ভব।
যার চার মুখ আছে। সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে থাকলেও যদি সমস্ত পদটি অন্য কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝায়, তবে তা বহুব্রীহি সমাস হয়। মেধা ঘরের সূত্রমতে, এটি ‘সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি’ সমাসের অন্তর্ভুক্ত।
ফি: ফ্রি