Finished . event 30 Nov, -0001 12:00 AM
বাংলা ব্যাকরণে ক্রিয়াপদের সাথে নামপদের সম্পর্ক অনুযায়ী কারক প্রধানত ছয় প্রকার। যথা: কর্তৃকারক, কর্মকারক, করণকারক, সম্প্রদান কারক, অপাদান কারক ও অধিকরণ কারক। এটি মেধা ঘর বইয়ের কারক অধ্যায়ের মৌলিক ভিত্তি।
বাংলা ব্যাকরণে পদ ও পদাশ্রিত সম্বন্ধ নিয়ে আলোচনা করা হয় রূপতত্ত্বে। কারক যেহেতু নামপদের সাথে ক্রিয়াপদের সম্পর্ক নির্দেশ করে, তাই কারক রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
কারক শব্দের অর্থ হলো 'যা ক্রিয়া সম্পাদন করে'। বাক্যের ক্রিয়াপদের সাথে নামপদ বা সর্বনাম পদের যে সম্পর্ক তাকেই কারক বলে। মেধা ঘর অনুযায়ী, ক্রিয়া পদের সঙ্গে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের সম্পর্কই কারকের প্রাণ।
প্রথমা বিভক্তি বা শূন্য বিভক্তির বহুবচনে 'রা', 'এরা', 'গুলো', 'গুলা' ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়। তাই সঠিক উত্তর 'এরা'।
বাক্যে ব্যবহৃত বিভক্তিগুলো শব্দকে পদে পরিণত করে এবং ক্রিয়ার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে। মেধা ঘর ব্যাকরণের সংজ্ঞা অনুযায়ী, শব্দ ও পদের মধ্যে বিভক্তিই এই কাজ করে।
ব্যাকরণের সংজ্ঞায়, ক্রিয়া সম্পাদনের উপায় বা মাধ্যমকে করণ কারক বলা হয়। এটি মেধা ঘর বইয়ের কারক অধ্যায়ের মূল কথা।
আরেফ (কর্তা) এখানে শূন্য বিভক্তিযুক্ত। তাই এটি কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি। মেধা ঘর অনুসরণে এটি একটি ধ্রুপদী উদাহরণ।
ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী সব কারকেরই ক্রিয়ার সাথে প্রত্যক্ষ সম্পর্ক থাকে। তবে অনেক ক্ষেত্রে 'করণ' কারক বা 'অধিকরণ' কারক ক্রিয়ার সাথে পরোক্ষ বা স্থান-কাল ভেদে সম্পর্ক স্থাপন করে। রূপতত্ত্বর বিচারে করণ কারক ক্রিয়ার সাধক বা উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
যে ক্রিয়া সম্পাদন করে সে-ই কর্তা। এখানে 'নেওয়ার' কাজটি 'আমরা' করছি, তাই এটি কর্তৃকারক।
এখানে গৃহহীন ব্যক্তি (কর্তা) চিরদিন পরাধীন থাকে। ক্রিয়া সম্পাদনের মূল কর্তা হলো গৃহহীন। বিভক্তিহীন পদ হওয়ায় এটি কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি।
এখানে 'দশে' মিলে কাজটি করছে (কর্তা)। 'এ' বিভক্তি যুক্ত হওয়ায় এটি কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তি।
এখানে তারক ঠাকুর কারক পড়ার কাজটি করছেন, তাই তিনি কর্তা বা কর্তৃকারক।
রাজা এখানে মূল কর্তা এবং রাজা পদে কোনো বিভক্তি চিহ্ন নেই, তাই এটি কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি।
যাকে কোনো কিছু জানানো বা দেওয়া হয়, কর্ম কারকের নিয়মে তা কর্মকারক হিসেবে গণ্য হয়। এখানে শিক্ষককে (কর্ম) জানাও।
ঘোড়া হলো চড়ার মাধ্যম বা উপায়। তাই এটি করণ কারক। বাক্যটিতে ৭মী বিভক্তি থাকলেও প্রশ্নে শূন্য বিভক্তি জানতে চাওয়া হয়েছে, যা নির্দেশ করে এটি করণ কারকের ব্যবহার।
ফুল হলো ঘর ভরার উপকরণ। উপকরণ বা উপায় হলে করণ কারক হয়। 'ফুলে' পদে 'এ' বিভক্তি আছে, তাই এটি ৭মী বিভক্তি।
কালি একটি উপকরণ। উপকরণের সাহায্যে কিছু করলে করণ কারক হয়। 'কালির' পদে 'র' বিভক্তি থাকায় এটি ৬ষ্ঠী বিভক্তি।
তাস এখানে খেলার উপকরণ (মাধ্যম)। মাধ্যম হিসেবে করণ কারক এবং এতে কোনো বিভক্তি চিহ্ন নেই, তাই এটি শূন্য বিভক্তি।
আলোর মাধ্যমে বা উপায়ে আঁধার দূর হয়। উপায় বা মাধ্যম বোঝাতে করণ কারক হয়।
স্থান বা পাত্র বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়। ফুলুরিতে (একটি স্থানে) ধান খাওয়ার কাজ হয়েছে, তাই এটি অধিকরণ কারক এবং ‘এ’ বিভক্তি থাকায় এটি ৭মী বিভক্তি।
কর্তৃবাচ্যে বা ভাববাচ্যে কর্তায় 'র' বা 'এর' বিভক্তি হলে তা ৬ষ্ঠী হয়। 'আমার' শব্দটিতে 'র' বিভক্তি থাকায় এটি কর্তৃকারকে ৬ষ্ঠী বিভক্তি।
সাহায্যকারী বা উপায় বোঝাতে করণ কারক হয়। এখানে 'তাকে' (মাধ্যম) দিয়ে কিছু হবে না, তাই এটি করণ কারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে/রে থাকলে দ্বিতীয়া হয়)।
এখানে 'সবাই' ক্রিয়া সম্পাদনের অধিকারী বা কর্তা হিসেবে কাজ করছে, তাই এটি কর্তৃকারক।
এখানে দস্যুকে দস্যু কর্তৃক নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দস্যু নিজে কর্তা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে বলে এটি কর্তৃকারক।
বিকল্পগুলোর মধ্যে 'পুষ্পকে আমরা ফুল বলি' বাক্যে বিভক্তির প্রয়োগ অন্যান্যদের তুলনায় সরল।
চাষ করার মাধ্যম বা উপায় হিসেবে এটি করণ কারক।
চাবুক হলো মারার উপকরণ বা উপায়। তাই চাবুক দ্বারা মারার কারণে এটি করণ কারক এবং 'দ্বারা' বা তৃতীয় বিভক্তি প্রযুক্ত হয়েছে।
ফি: ফ্রি