Finished . event 30 Nov, -0001 12:00 AM
বচন শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো 'সংখ্যার ধারণা'। ব্যাকরণে বচন বলতে বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাকে বোঝায়, অর্থাৎ শব্দটি দ্বারা একটি নাকি একের অধিক বস্তু বা প্রাণীকে বোঝানো হচ্ছে। এটি ব্যাকরণের একটি প্রক্রিয়া যা বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যা নির্দেশ করে।
বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী বচন প্রধানত দুই প্রকার: ১. একবচন (একটি বস্তু বা প্রাণী বোঝাতে) ও ২. বহুবচন (একের অধিক বোঝাতে)।
বাংলায় বিশেষ্যের সাথে 'টা, টি, খানা, খানি, গাছা, গাছি' যুক্ত হয়ে নির্দিষ্ট করে একটি মাত্র বস্তুকে বোঝায়, যা একবচনের অন্তর্ভুক্ত। উদাহরণ: কলমটি, বইখানা।
বাংলা ব্যাকরণে বচন, লিঙ্গ, কারক ও সমাসের মতো বিষয়গুলো 'রূপতত্ত্ব' বা 'শব্দতত্ত্ব' (Morphology) অংশে আলোচিত হয়, কারণ এখানে শব্দের রূপগত পরিবর্তনের প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করা হয়।
ইতর প্রাণিবাচক বা অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচন গঠনে সাধারণত 'গুলি', 'গুলা', 'গুলো' বিভক্তি যুক্ত হয়। যেমন: বইগুলো, ছাগলগুলি। উন্নত প্রাণিবাচক শব্দের ক্ষেত্রে 'রা' বা 'দের' ব্যবহৃত হয়।
ইতর প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচন করতে বিশেষ্যের শেষে 'কুল', 'সমূহ', 'আবলি', 'মালা' ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়। যেমন: পক্ষীকুল, বৃক্ষকুল।
বাংলায় 'বন্ধু' একটি উন্নত প্রাণিবাচক শব্দ। এর বহুবচন করতে 'গণ', 'রা', 'বর্গ' সবকটিই ব্যাকরণসম্মতভাবে ব্যবহৃত হতে পারে। তাই সঠিক উত্তর সবকটিই।
দ্বিরুক্ত শব্দের মাধ্যমে যখন একই পদের পুনরাবৃত্তি ঘটে, তা বহুবচন বোঝাতে পারে। 'পাকা পাকা আম' দিয়ে অনেকগুলো আমকে নির্দেশ করা হচ্ছে। অন্যান্য অপশনগুলো অবস্থা বা আবেগ প্রকাশ করে।
এখানে 'বৃক্ষ' শব্দের সাথে 'রাজি' বা 'সমূহ' প্রত্যয় যোগ করে বহুবচন করা হয় (যেমন: বৃক্ষরাজি)। এটি সংস্কৃতজাত বহুবচন প্রক্রিয়ার একটি উদাহরণ।
বাংলায় 'সকল' বা 'সব' শব্দ ব্যবহার করলে আর বাড়তি 'রা/এরা' বিভক্তির প্রয়োজন নেই। 'সকল মানুষেরাই' প্রয়োগটি বাহুল্য দোষে দুষ্ট, তাই এটি ভুল। সঠিক হবে 'সকল মানুষই মরণশীল'।
বচন মূলত বিশেষ্য (যেমন: লোক/লোকেরা) এবং সর্বনাম (যেমন: আমি/আমরা) পদের রূপ পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এই দুটি পদই বচন ভেদে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তিত হয়।
'বনে সিংহ থাকে' বাক্যে একটি নির্দিষ্ট সিংহকে বোঝাচ্ছে, যা একবচন। অন্যগুলোতে 'মানুষ', 'লোকে' জাতিবাচক বা বহুবচন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
বিশেষ নিয়মে সাধিত বহুবচনের একটি প্রধান উদাহরণ হলো 'মানুষ মরণশীল'। এখানে কোনো বিভক্তি ছাড়াই 'মানুষ' শব্দটি পুরো মানবজাতি বা বহুবচনকে নির্দেশ করছে।
অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে 'আবলি', 'গুচ্ছ', 'দাম', 'নিকর', 'মালা' ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ: পুস্তকাবলি, পর্বতমালা।
উন্নত প্রাণিবাচক বা মনুষ্যবাচক শব্দের বহুবচনে বিশেষ নিয়মে 'গণ', 'বৃন্দ', 'মণ্ডলী', 'বর্গ', 'যূথ' ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়। যেমন: শিক্ষকগণ, ছাত্রবৃন্দ।
ফি: ফ্রি