Finished . event 30 Nov, -0001 12:00 AM
বাংলা ব্যাকরণে যে চিহ্নের দ্বারা কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ পুরুষ, স্ত্রী না কি অন্য কোনো জাতীয় তা বোঝায়, তাকে 'লিঙ্গ' বলে। লিঙ্গ মূলত জাত বা ভেদের পরিচয় বহন করে।
পুরুষবাচক শব্দ 'মালী'-এর স্ত্রীবাচক রূপ হলো 'মালিনী'। এটি লিঙ্গান্তরের একটি সাধারণ নিয়ম যেখানে 'ঈ' প্রত্যয় যুক্ত হয়ে স্ত্রীলিঙ্গ গঠিত হয়।
যেসব পুরুষবাচক শব্দের শেষে 'অক' থাকে, স্ত্রীলিঙ্গ করার সময় সেগুলোর শেষে 'ইকা' যুক্ত হয়। সেই নিয়ম অনুযায়ী, সেবক + ইকা = সেবিকা।
সাধারণত বিশেষ কোনো অর্থে বা বড় অর্থে স্ত্রীলিঙ্গ বোঝাতে 'অরণ্য' শব্দের শেষে 'আনী' প্রত্যয় যোগ করে 'অরণ্যানী' করা হয়। এটি একটি বিশেষ নিয়ম।
যেসব বিশেষ্য পদ দিয়ে প্রাণহীন জড় পদার্থ বোঝায়, যা পুরুষ বা স্ত্রী—কোনোটিই নয়, তাকে 'ক্লীবলিঙ্গ' বলে। দালান একটি জড় বস্তু, তাই এটি ক্লীবলিঙ্গ।
ব্যাকরণ অনুযায়ী 'ডাইনি' শব্দটি একটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ। এর কোনো নির্দিষ্ট পুরুষবাচক রূপ নেই। অন্যদিকে বাঁদী (গোলাম), দাত্রী (দাতা) এবং তাদৃশী (তাদৃশ) এর পুরুষবাচক রূপ বিদ্যমান।
যেসব শব্দ সবসময় পুরুষবাচক হয় এবং যাদের কোনো স্ত্রীবাচক রূপ নেই, তাদের 'নিত্য পুরুষবাচক' শব্দ বলে। 'কবিরাজ' একটি নিত্য পুরুষবাচক শব্দ। সতিন ও সম্রাট—এই শব্দগুলোর স্ত্রীবাচক রূপ আছে।
কবিরাজ একটি নিত্য পুরুষবাচক শব্দ, এর কোনো লিঙ্গান্তর হয় না। বেয়াই (বেয়ান), সাহেব (সাহেবা), সঙ্গী (সঙ্গিনী)—এগুলোর লিঙ্গান্তর সম্ভব।
যেসব শব্দ দিয়ে জড় বা প্রাণহীন কোনো বস্তু বা সমষ্টি বোঝায়, সেগুলো সাধারণত ক্লীবলিঙ্গ হয়। 'সমিতি' একটি সমষ্টিবাচক শব্দ যা জড় সত্তা হিসেবে পরিগণিত হয়, তাই এটি ক্লীবলিঙ্গ। মেধা ঘর-এর নিয়ম অনুযায়ী, প্রাণহীন বস্তুর ক্ষেত্রে ক্লীবলিঙ্গ প্রযোজ্য।
সজ্জন (সৎ + জন) শব্দটি মূলত পুরুষবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়। তাই ব্যাকরণ অনুযায়ী এটি পুংলিঙ্গ। স্ত্রীলিঙ্গ বোঝাতে এর সাথে বিশেষ প্রত্যয় বা শব্দ যুক্ত করতে হয়।
যেসব বিশেষ্য পদ দিয়ে পুরুষ বা স্ত্রী উভয়কেই বোঝানো যায়, তাকে উভয়লিঙ্গ বলে। 'সন্তান' বলতে ছেলে বা মেয়ে উভয়কেই বোঝায়, তাই এটি উভয়লিঙ্গ।
এখানে 'শিক্ষিত' শব্দটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে যা পুরুষ (শিক্ষিত ব্যক্তি) বা স্ত্রী (শিক্ষিতা নারী) উভয়কেই নির্দেশ করতে পারে। যদিও বাংলায় স্ত্রীলিঙ্গ বাচকের জন্য 'শিক্ষিতা' আলাদা শব্দ আছে, তবে সাধারণ অর্থে এটি উভয়লিঙ্গ বাচকের কাছাকাছি।
বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, অনেক সময় স্ত্রীলিঙ্গ ক্ষুদ্রতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। নাটক (বড়) থেকে নাটিকা (ছোট নাটক) হয়েছে, যা ক্ষুদ্রার্থে স্ত্রীলিঙ্গ হয়েছে।
বাংলা ব্যাকরণে 'মাতা' শব্দটি স্ত্রীবাচক কিন্তু অপ্ত্রীবাচক হিসেবে গণ্য হয় কারণ এটি কোনো বিশেষ কাজ বা পেশার স্ত্রীলিঙ্গ নয়, বরং একটি মৌলিক সম্পর্কের নাম। তবে এখানে অপশনগুলোর মধ্যে বিভ্রান্তি এড়াতে মনে রাখা জরুরি যে মা-মাতা মৌলিক স্ত্রীবাচক শব্দ।
ননদ শব্দের দুটি পুরুষবাচক রূপ পাওয়া যায়: ১. দেবর (স্বামীর ছোট ভাই) এবং ২. ভায়রা (কখনো কখনো সম্পর্কের খাতিরে ব্যবহৃত)। মেধা ঘর রেফারেন্স অনুযায়ী ব্যাকরণে এই বিশেষ ব্যতিক্রমগুলো লক্ষ্য রাখতে হবে।
ফি: ফ্রি