Finished . event 30 Nov, -0001 12:00 AM
তড়িৎ বা বিদ্যুৎ প্রবাহের আন্তর্জাতিক একক হলো অ্যাম্পিয়ার (Ampere)। একে 'A' প্রতীক দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
বর্তনীতে বিদ্যুৎ প্রবাহ সরাসরি অ্যাম্পিয়ার এককে পরিমাপ করার জন্য অ্যামিটার (Ammeter) ব্যবহার করা হয়। এটি বর্তনীর সাথে শ্রেণিবিন্যাসে (Series) যুক্ত থাকে।
ইলেকট্রন গ্রহণের মাধ্যমে কোনো পরমাণু বা মূলক ঋণাত্মক আধানযুক্ত হলে তাকে অ্যানায়ন (Anion) বলে। তড়িৎ বিশ্লেষণের সময় অ্যানায়ন অ্যানোডের (ধণাত্মক তড়িৎদ্বার) দিকে আকর্ষিত হয়।
তড়িৎ বিশ্লেষণ কোষে ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে সংযুক্ত তড়িৎদ্বারকে ক্যাথোড (Cathode) বলা হয়। তাই এটি একটি ঋণাত্মক তড়িৎদ্বার।
১৮৩৪ সালে বিখ্যাত বিজ্ঞানী মাইকেল ফ্যারাডে তড়িৎ বিশ্লেষণের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্র আবিষ্কার করেন, যা ফ্যারাডের তড়িৎ বিশ্লেষণের সূত্র নামে পরিচিত।
ক্যালরি (Calorie), জুল (Joule) এবং কিলোজুল (kJ) হলো শক্তির একক। অন্যদিকে cm/sec (সেন্টিমিটার/সেকেন্ড) হলো বেগের সিজিএস (CGS) একক, এটি শক্তির একক নয়।
১ মোল ইলেকট্রনের মোট আধানকে ১ ফ্যারাডে (1 F) বলা হয়। এর সঠিক মান প্রায় ৯৬,৫০০ কুলম্ব (Coulomb)।
তড়িৎ বিশ্লেষণের সময় ক্যাথোড বা ঋণাত্মক তড়িৎদ্বারে ধণাত্মক আয়নসমূহ (ক্যাটায়ন) ইলেকট্রন গ্রহণ করে। ইলেকট্রন গ্রহণ করার এই প্রক্রিয়াকে বিজারণ বলে, তাই ক্যাথোড হলো বিজারণ তড়িৎদ্বার।
তড়িৎ বিশ্লেষণের সময় অ্যানোড বা ধণাত্মক তড়িৎদ্বারে ঋণাত্মক আয়নসমূহ (অ্যানায়ন) ইলেকট্রন ত্যাগ করে। ইলেকট্রন বর্জনের এই প্রক্রিয়াকে জারণ বলে, তাই অ্যানোড হলো জারণ তড়িৎদ্বার।
তড়িৎ বিশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় একই সাথে অ্যানোডে জারণ (ইলেকত্রন ত্যাগ) এবং ক্যাথোডে বিজারণ (ইলেকট্রন গ্রহণ) সংঘটিত হয়। যেহেতু জারণ ও বিজারণ যুগপৎ ঘটে, তাই এটি একটি শক্তিশালী জারণ-বিজারণ (Redox) প্রক্রিয়া।
গ্লুকোজ, চিনি বা অ্যালকোহল হলো সমযোজী যৌগ। এরা গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় আয়নে বিয়োজিত হয় না এবং এদের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে পারে না। তাই এরা তড়িৎ অবিশ্লেষ্য পদার্থ।
চিনি বা সুক্রোজ একটি সমযোজী যৌগ হওয়ায় এটি জলীয় দ্রবণে কোনো আয়ন তৈরি করে না এবং বিদ্যুৎ পরিবহন করে না। তাই চিনি একটি তড়িৎ অবিশ্লেষ্য পদার্থ।
ইলেক্ট্রোপ্লেটিং এর মাধ্যমে অধিক সক্রিয় ও সহজে ক্ষয়প্রাপ্ত ধাতুর (যেমন- লোহা) উপর অপেক্ষাকৃত কম সক্রিয় ধাতুর (যেমন- ক্রোমিয়াম, niকেল) প্রলেপ দেওয়া হয়। এর প্রধানতম মূল উদ্দেশ্য হলো ধাতুকে মরিচা ও আবহাওয়াজনিত ক্ষয়রোধ থেকে রক্ষা করা।
ইলেক্ট্রোপ্লেটিং করার মূল উদ্দেশ্যগুলো হলো ধাতুর ক্ষয় ও মরিচা রোধ করা এবং তার স্থায়িত্ব ও উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করা। রাসায়নিক বিক্রিয়া রোধ করা ইলেক্ট্রোপ্লেটিং এর উদ্দেশ্য নয়।
ঘড়ির চেইন, সাইকেলের হ্যান্ডেল ইত্যাদি সাধারণত সস্তা ও টেকসই ধাতু লোহা দিয়ে তৈরি করা হয় এবং পরে মরিচা থেকে বাঁচাতে ও আকর্ষণীয় করতে এর ওপর ক্রোমিয়ামের প্রলেপ (ইলেক্ট্রোপ্লেটিং) দেওয়া হয়।
লোহার তৈরি সামগ্রীকে মরিচার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য এর ওপর গলিত দস্তা বা জিঙ্কের (Zinc) পাতলা প্রলেপ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে গ্যালভানাইজিং (Galvanizing) বলা হয়।
ইলেক্ট্রোপ্লেটিং করার পূর্বে প্রলেপ দেওয়ার কাঙ্ক্ষিত বস্তুটির গায়ে লেগে থাকা তেল, চর্বি বা মরিচা দূর করার জন্য প্রথমে কস্টিক সোডা (ক্ষার) এবং পরবর্তীতে লঘু সালফিউরিক এসিড দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে রাসায়নিকভাবে পরিষ্কার করে নেওয়া হয়।
সোডিয়াম ক্লোরাইডের ঘন জলীয় দ্রবণের (ব্রাইন) তড়িৎ বিশ্লেষণে ক্যাথোডে হাইড্রোজেন গ্যাস এবং অ্যানোডে ক্লোরিন গ্যাস উৎপন্ন হয়। দ্রবণে Na+ এবং OH- আয়ন থেকে যাওয়ায় সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) উৎপন্ন হয়। তবে জলীয় দ্রবণে Na+ আয়নের চেয়ে H+ আয়নের চার্জমুক্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকায় কোনো সোডিয়াম ধাতু (Na) উৎপন্ন হয় না।
ফি: ফ্রি