Finished . event 30 Nov, -0001 12:00 AM
ভিনেগারে বা সিরকায় মূলত ৪% থেকে ১০% ইথানয়িক এসিড বা এসিটিক এসিডের জলীয় দ্রবণ থাকে। এটি খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে বহুল ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, লেবুতে সাইট্রিক এসিড, তেঁতুলে টারটারিক এসিড এবং পেয়ারায় এসকরবিক এসিড থাকে।
পাকস্থলীতে অতিরিক্ত হাইড্রোক্লোরিক এসিড ($HCl$) নিঃসৃত হলে বুক জ্বালাপোড়া বা এসিডিটি হয়। এন্টাসিড ওষুধে ক্ষারজাতীয় উপাদান যেমন অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড [$Al(OH)_3$] এবং ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড [$Mg(OH)_2$] থাকে, যা পাকস্থলীর অতিরিক্ত এসিডের সাথে প্রশমন বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে এবং এসিডকে নিষ্ক্রিয় করে।
যেকোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটিত হওয়ার প্রাথমিক ও প্রধান শর্ত হলো বিক্রিয়ক পদার্থগুলোর একে অপরের সংস্পর্শে আসা। সংস্পর্শ ছাড়া বিক্রিয়া শুরু হওয়া সম্ভব নয়।
এসিড ও ক্ষারের পারস্পরিক বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি উৎপন্ন হওয়ার প্রক্রিয়াকে প্রশমন বিক্রিয়া বলে। এটি একটি তাপ উৎপাদী বিক্রিয়া।
যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় দুই বা ততোধিক পদার্থ পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে সম্পূর্ণ নতুন একটি যৌগ গঠন করে, তাকে সংযোজন বিক্রিয়া বলে। এখানে সোডিয়াম ও ক্লোরিন যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড গঠন করেছে।
উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য ক্লোরোফিল এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের পাশাপাশি সূর্যালোক শক্তি সরবরাহকারী প্রধান ও অপরিহার্য উপাদান হিসেবে কাজ করে।
তীব্র ক্ষার সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড ($NaOH$) এবং তীব্র এসিড হাইড্রোক্লোরিক এসিডের ($HCl$) বিক্রিয়ায় সোডিয়াম ক্লোরাইড লবণ ও পানি তৈরি হয়। এটি একটি সুপরিচিত প্রশমন বিক্রিয়া।
মৌমাছির হুলে অম্লধর্মী বা এসিডিক বিষ থাকে, যা শরীরে প্রবেশ করলে জ্বালা-যন্ত্রণা হয়। এই অম্লকে প্রশমিত করার জন্য ক্ষারধর্মী পদার্থের প্রয়োজন। কলিচুন ($CaO$) একটি ক্ষারীয় পদার্থ যা এসিডের সাথে প্রশমন বিক্রিয়া করে ক্ষতস্থানের ব্যথা উপশম করে। ভিনেগার এসিডিক এবং পানি নিরপেক্ষ হওয়ায় এগুলো এসিডকে প্রশমিত করতে পারে না।
উচ্চ চাপ ও তাপমাত্রায় অসংখ্য ক্ষুদ্র অণু (মনোমার) পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে যখন একটি বৃহৎ অণু (পলিমার) গঠন করে, তখন তাকে পলিমারকরণ বিক্রিয়া বলে। এখানে ইথিলিন মনোমার থেকে পলিইথিলিন পলিমার তৈরি হয়।
পলিইথিলিনের গঠনে ইথিলিনের দ্বিবন্ধন ভেঙে একক বন্ধনে রূপান্তর ঘটে এবং অসংখ্য একক যুক্ত হয়ে বড় শৃঙ্খল তৈরি করে। এর সঠিক সংকেত $[-CH_2-CH_2-]_n$।
আধুনিক বা ইলেকট্রনীয় মতবাদ অনুযায়ী, যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় কোনো পরমাণু, অণু বা আয়ন ইলেকট্রন বর্জন বা ত্যাগ করে, তাকে জারণ বিক্রিয়া বলে।
নাইট্রিক এসিড ($HNO_3$) একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও তীব্র জারক পদার্থ, কারণ এটি সহজেই জারিত হয়ে জায়মান অক্সিজেন উৎপন্ন করে যা অন্য পদার্থকে জারিত করে।
সোডিয়াম ($Na$) একটি ক্ষার ধাতু। ধাতুসমূহ সাধারণত ইলেকট্রন ত্যাগ করে নিজে জারিত হয় এবং অন্যকে বিজারিত করে। তাই সোডিয়াম একটি শক্তিশালী বিজারক পদার্থ, জারক নয়। অন্যদিকে অধাতুসমূহ ($O_2, F_2, Br_2$) ইলেকট্রন গ্রহণ করে জারক হিসেবে কাজ করে।
গ্রাফাইট হলো কার্বনের একটি রূপভেদ। কার্বন অন্য পদার্থ থেকে অক্সিজেন অপসারণ করে নিজে জারিত হতে পারে, তাই এটি বিজারক হিসেবে কাজ করে। অন্যদিকে ওজোন ($O_3$) এবং পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট ($KMnO_4$) তীব্র জারক পদার্থ।
প্রশমন তাপের সংজ্ঞানুযায়ী, তীব্র এসিড ও তীব্র ক্ষারের বিক্রিয়ায় এক মোল পানি ($1\text{ mol } H_2O$) উৎপন্ন হতে যে পরিমাণ তাপের পরিবর্তন ঘটে, তাকে প্রশমন তাপ বলে। তীব্র এসিড ও ক্ষারের ক্ষেত্রে এই মান ধ্রুবক ($-৫৭.৩৪\text{ kJ}$).
এই বিক্রিয়ায় কপার অক্সাইড ($CuO$) থেকে অক্সিজেন অপসারিত হয়ে $Cu$ তে পরিণত হয়েছে (বিজারণ) এবং কার্বন ($C$) অক্সিজেন গ্রহণ করে $CO$ তে পরিণত হয়েছে (জারণ)। সুতরাং এটি একটি জারণ-বিজারণ (Redox) বিক্রিয়া।
ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড একটি ক্ষারক এবং হাইড্রোক্লোরিক এসিড একটি এসিড। এদের বিক্রিয়ায় ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড (লবণ) ও পানি উৎপন্ন হয়েছে, তাই এটি একটি আদেশ প্রশমন বিক্রিয়া।
লেড ($Pb$) এবং সালফার ($S$) এর চূর্ণকে পরস্পরের সংস্পর্শে আনলে তারা সরাসরি যুক্ত হয়ে লেড সালফাইড ($PbS$) গঠন করে। এখানে সংস্পর্শই বিক্রিয়ার মূল নিয়ামক।
রাসায়নিক বিক্রিয়ার হারের ওপর তাপমাত্রা, ঘনমাত্রা, চাপ, প্রভাবক এবং বিক্রিয়কের পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফলের প্রভাব রয়েছে। কিন্তু বিক্রিয়াটি কত বড় বা ছোট পাত্রে ঘটছে বা পাত্রের আকারের ওপর বিক্রিয়ার গতির কোনো প্রভাব নেই।
কপার সালফেট ($CuSO_4$) এর জলীয় দ্রবণে জিংক ($Zn$) ধাতু যোগ করলে অধিক সক্রিয় জিংক কপারকে প্রতিস্থাপিত করে জিংক সালফেট ও কপার তৈরি করে। শুষ্ক অবস্থায় এই বিক্রিয়া সহজে ঘটে না, তাই কপার সালফেটের জলীয় দ্রবণ থাকা আবশ্যক।
অ্যামোনিয়াম সায়ানেট ($NH_4CNO$) কে উত্তপ্ত করলে তা পুনর্বিন্যস্ত হয়ে ইউরিয়া [$NH_2-CO-NH_2$] তৈরি করে। যেহেতু দুটি যৌগের আণবিক সংকেত এক কিন্তু গাঠনিক সংকেত ভিন্ন, তাই এটি একটি সমাণুকরণ (Isomerization) বিক্রিয়া। (নোট: ছবিতে প্রিন্ট অস্পষ্ট থাকায় উত্তরটি সংশোধনপূর্বক সঠিক বিক্রিয়া উপস্থাপন করা হয়েছে)।
এই বিক্রিয়ায় ফেরাস আয়নের জারণ সংখ্যা $+২$ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ফেরিক আয়নে ($+৩$) পরিণত হয় (জারণ) এবং মুক্ত ক্লোরিনের জারণ সংখ্যা $০$ থেকে হ্রাস পেয়ে $-১$ হয় (বিজারণ)। অতএব, এটি একটি জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া।
যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় কোনো যৌগের অণু পানির অণুর সাথে বিক্রিয়া করে পানির হাইড্রোজেন আয়ন ($H^+$) ও হাইড্রোক্সিল আয়ন ($OH^-$) এর সাথে যুক্ত হয়ে নতুন যৌগ উৎপন্ন করে, তাকে আর্দ্র বিশ্লেষণ বা পানিবিশ্লেষণ (Hydrolysis) বলে। এখানে অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড পানির সাথে বিক্রিয়া করে অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও হাইড্রোক্লোরিক এসিড উৎপন্ন করে।
ধরি সালফারের জারণ সংখ্যা $x$। আমরা জানি $H$ এর জারণ সংখ্যা $+১$ এবং $O$ এর জারণ সংখ্যা $-২$। নিরপেক্ষ যৌগের মোট জারণ সংখ্যা শূন্য হয়। $(+১ \times ২) + x + (-২ \times ৪) = 0$ $\Rightarrow ২ + x - ৮ = 0$ $\Rightarrow x - ৬ = 0$ $\Rightarrow x = +৬$
ফি: ফ্রি